৩১°সে
কক্সবাজার

হিমছড়ি

February 13, 2016

himchori-water-fallকক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিনে রয়েছে একটি আকর্ষনীয় পর্যটনস্পট। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ সমুদ্র সৈকতের নাম হিমছড়ি। এখানকার সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নির্জন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এর সৌন্দর্যওকোনো অংশে কম নয়। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো হিমছড়ি যত না সুন্দর তারচাইতে সুন্দর ও রোমাঞ্চকর হল কক্সবাজার থেকে এ সৈকতে যাওয়ার পথটি। এক কথায় অসাধারন, কাব্যক, স্বপ্নের মত মত সুন্দর। একপাশে বিস্তৃর্ন সমুদ্রের বালুকা বেলা আর এক পাশে সবুজ পাহাড়ের সাড়ি। মাঝে পিচ ঢালা মেরিন ড্রাইভ।এমন দৃশ্য সম্ভবত দেশের আর কোথাও পাওয়া যাবে না। কেউ কক্সবাজার এলো অথচএই পথ ধরে ছুটলো না তার পুরো ভ্রমনই মাটি। পাহাড়ে উঠলে চোখের সামনে ভাসবে নীল দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া বিশাল সমুদ্র। হিমছড়ির পাহাড়ের হিমশীতল ঝরনা গুলো বেশ আকর্ষণীয়। ছোট ছোট ঝর্না আপন মনে ঝরে পরছে পাহাড়ের গায়ে ছূটে যাচ্ছে সাগরের দিকে।

যারা হৈ হুল্লুর পছন্দ করেন, বন্ধুদের নিয়ে উল্লাস করতে ভালবাসেন তাদের জন্য খোলা ছাদের জিপ উত্তম বাহন হিমছড়ি যাবার জন্য। ক্ষিপ্র গতিতে যখন জিপছুটে চলে খোলা জিপের উপর দাড়িয়ে দুপাশে তাকালে মনে হবে যেন স্বপ্নে দেশে ভেসে যাচ্ছেন। এটি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। আর যারা একটুশান্ত, ভদ্রভাবে পরিবার কিংবা স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চান হিমছড়ি তাদের জন্য রিক্সাই উত্তম বাহন। দুপুরের রোদ কমে গেলে রওনা হতে হবে। পথ চলতে হবে কক্সবাজারের নানা চিংড়ি হ্যাচারীর মাঝখান দিয়ে । পথে লাল রংয়ের স্কুল ড্রেসপরা ছেলে মেয়েদের দেখবেন। আর দুপাশে থাকবে সাগর পারের গাছপালা। এরপর বেশউচু একটা ব্রীজপার হয়ে শুরু হবে হিমছড়ির রাস্তা। রাস্তার একপাশে থাকবে উচু পাহাড় আরেক পাশে সাগর। নানা রকম পাখির কলতান শুনতে শুনতে আপনি রোমাঞ্চিত হবেন। এই রাস্তাটি সেনা বাহিনীর তৈরি করা। যাবার পথে সেনাবাহীর একটি ক্যাম্প। পাহাড়ে নানা রকম ঝোপ-ঝারের সাথে সাথে সমুদ্র সৈতক পাড়ে দেখা যায় সুদুর ঝাউ গাছের সারি। মাঝে মাঝে নারিকেল গাছের এক পায়ে দাড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যের ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে। জায়গায় জায়গায় দেখবেন পাহাড়ী ছোট-ছোট ঝড়না। শুকনা মৌসুমে হয়তো সবটাতে পানি দেখবেন না। পথে রিক্সা বা গাড়ীথামিয়ে ঝড়নার পারে ঘুরে আসতে পারেন। রাস্তার ওপর পাশে সাগর। মাঝে মাঝে দেখবেন জেলে নৌকা বালির উপর সারি করে রাখা আছে।

হিমছড়িতে একটি ছোট পর্যটন কেন্দ্র আছে। টিকেট কেটে এখানে ঢুকতে হয়। ভীতরের পরিবেশটা বেশ সুন্দর। পাহাড়ের উপরে আছে অনেকগুলো বিশ্রামাগার। প্রায় ২ শতাধিক সিড়ি মাড়িয়ে উপরে উঠতে হয়। কষ্টটা মুহুর্তেই ভুলে যাবেন যখনপাহাড়ের চুড়া থেকে কক্সবাজারের পুরো সমুদ্র সৈকতটা এক পলকে দেখতে পাবেন।দুলর্ভ সে দৃশ্য। এখানে একটি ছোট ঝর্না রয়েছে। ঝর্নাটি ছোট কিন্তু বর্ষামৌসুমে এটি দারুন রূপ ধারন করে।

কীভাবে যাবেন হিমছড়ি?

  • কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি ২ ভাবে যাওয়া যায়। জীপ ভাড়া করে অথবা রিক্সায়।
  • অথবা এখানে বেবি ট্যাক্সিও ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ভাড়া পাওয়া যায়। সেটাতে করেও যেতে পারেন।


Leave a Reply


error: Content is protected !!